ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদরাসায় আলোচনা ও দোয়া

পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে প্রিয় নবীজির প্রতিটি কর্মকে অনুসরণ করে তাঁর সারা জীবনের আদর্শকে লালন করতে হবে
—-জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেছেন, একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রিয় নবীজির প্রতিটি কর্মকে অনুসরণ করে তাঁর সারা জীবনের আদর্শকে আমাদের লালন করতে হবে। উনার প্রকৃত উম্মত হিসাবে আমরা বেঁচে থাকতে চাই। আদর্শবান মানুষ হতে এবং মহান আল্লাহকে পেতে হলে, জান্নাত পেতে হলে আল্লাহ এবং রাসুলের পথে হাটতে হবে । আর এ পথ পেতে হলে কোন ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে যেতে হয় না। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে, এসব বলে বেড়ায় তাদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে। এরা ধোকাবাজ। তিনি বলেন, জান্নাতে কে যাবেন, কে যাবেন না, সেটি মহান আল্লাহই জানেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম সলিমউল্যা সেলিম পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদরাসায় আলোচনা, পুরস্কার বিতরন, মিলাদ ও দোয়া এবং মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল করা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্যে এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো: মাসুম বিল্লাহ মজুমদারের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও তরপুরচন্ডি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান গাজী।
জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. একেএম সলিম উল্ল্যা সেলিম আরো বলেন, রবিউল আওয়াল মাসে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ ( স.) জন্ম নিয়েছেন। নবীর জন্মদিন ১২ রবিউল আউয়াল এবং মহা নবীর জন্মের এ মাস আমাদের কাছে অনেক অনেক মূল্যবান এবং রহমতের মাস। গুরুত্বপূর্ণ মাস।
তিনি বলেন, আমাদের এই আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে অনেক আন্তরিক একজন মানুষ। তিনি এখানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন। আগামীতে তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরও উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। আপনারা এমপি মহোদয়ের জন্য দোয়া করবেন।
তিনি বলেন,গভর্ণিংবডি, শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে শিক্ষার্থীদের ভালো ফল অর্জনে কাজ করতে হবে এবং একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন,এই
আহমাদিয়া ফাজিল মাদরাসা একটি ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য প্রয়াত আহম্মদ উল্ল্যাহ পাটওয়ারী, হাবিবুল্লাহ পাটওয়ারীসহ যাঁরা মাদরাসার জন্য করে গেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁরা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন, শিক্ষানুরাগী হিসাবে এরকম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান করে গেছেন। আমরা চাই, এখান থেকে ভালোভাবে পড়াশুনা করে শিক্ষার্থীরা দেশ এবং দেশের বাহিরে সুনাম কুড়াবে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসাবে নিজের দেশকে গড়বে। একজন আদর্শ মানুষ হবে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যতে আমি আমার পরিষদ থেকে যেটুকু করনীয় তা করে যাবো।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপাধ্যক্ষ মো: মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক আবদুল হামিদ, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।ছাত্রদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন,
মোঃ মাহাদি হাসান ও মোঃ আশিকুর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন , সহকারী অধ্যাপক যথাক্রমে ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সুলতানা আক্তার ও শেফাতুন নাহার, প্রভাষক মীর হোসেন, মোহাম্মদ উল্লাহ, নূর মোহাম্মদ, বোরহান উদ্দীন। সহকারী শিক্ষক মো: শহীদুল্লাহ্, আমিনুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, নাসিমা আক্তার, সিরাজুল ইসলাম, মো: মহিউদ্দিন, মো: আহসান, শামসুন্নাহার, রাশিদা আক্তার সহ সকল শিক্ষকগণ।


সকালে কোরান খতম ও আলোচনাশেষে মিলাদ সম্পন্ন হয়।
প্রধান অতিথি ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোঃ আব্দুল হামিদের তত্ত্বাবধানে কুরআন খতম, হাদীস পাঠ এবং দোয়ায়ে ইউনূস পাঠ হয়।অনুষ্ঠানে
কুরআন তেলাওয়াত করেন ছাত্র
মোঃ সাইফুল্লাহ।
নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন, ছাত্র মোঃ মোন্তাসিরুল ইসলাম । যৌথ কন্ঠে নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন, ছাত্রী সুফিয়্যা ইসলাম ও নুসরাত জাহান। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন,
উপাধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান , প্রভাষক মোঃ মীর হোসেন, মোঃ মাহাবুবুর রহমান, মোঃ আহসান হাবীব সহ অন্যান্য শিক্ষকগন ।

শেয়ার করুন